লিয়াকত হোসেন রাজশাহী :পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশব্যাপী লকডাউনে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছে। তাদের অভিভাবকদের আয় উপার্জনও বন্ধ। অভাবের তাড়নায় পবিত্র রমজানে দু’বেলা ভাল খাবার জোগাতেই হিমসিম খাচ্ছে।এরমধ্যে সন্তানের প্রাতিষ্ঠানিক খরচের দিকে নজর– দরিদ্র বাবার আত্মহত্যা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
ইতোমধ্যে কপালে ভাজ ফেলা তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা দানকারী শাখা ডব্লিউএফপি। করোনা ভাইরাস মহামারীতে খাদ্যের অভাবেই বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি মানুষ প্রাণ হারাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অর্থনীতি সচল রেখে ভারসাম্যপূর্ণভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলার আহবান জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডেভিজ বিজলে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বনেতাদের অর্থনীতি সচল রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় কোভিড-১৯ মোকাবিলা করতে হবে। অন্যথায়  কোভিড-১৯ এর চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক মারা যাবে অর্থনৈতিক অবনতি ও অনাহারে।’
বাংলাদেশের অবস্থা খুব ভাল বলার অবকাশ রাখে না। ইতোমধ্যে দেশের কৃষিতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আবাদি ফসল ঘরে তুলতেই পারছেন না কৃষকরা। উত্তরবঙ্গের অন্যতম জীবিকা নির্বাহী ফসল পান রপ্তানি করতে না পারায় পথে বসতে যাচ্ছেন অর্ধ লাখ পানচাষী। উত্তরের জেলা রাজশাহীর মোহনপুরেই পানচাষী ১৩ সহস্রাধিক। এখানকার ১৫ হাজারের ওপরে পানবরজের পান রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ। যেসব পান ভারত, পাকিস্তান, লিবিয়া, সৌদিআরব, বাহরাইন, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। যা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ায় পান নির্ভর পরিবারগুলোতে ঘোর অমানিশা নামতে যাচ্ছে।
দেশে রমজান কিংবা দুর্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি নতুন কিছু নয়। সিন্ডিকেটের কালোবাজারির থাবায় ইফতার সামগ্রী কিনতে গিয়েও কয়েকবার ভাবতে হয় পরবর্তী রাতে সেহরির খাবার আছে কিনা। কৃষকের নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে। শ্রমিক-দিনমজুররা তো আরও মহাসংকটে। গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের নাটকীয় সিদ্ধান্তে উভয়সংকটে শ্রমিকরা। খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে চাকরী বাঁচানোর তাগিদে কধর্মক্ষেত্র ‘বেগার’ খাটতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। মাস শেষে পারিশ্রমিক পেলেও স্বস্তির ঢেকুর ফেলতে পারতেন। তাও নেই। আর কারখানা বন্ধ থাকলে তো পাবেনই না।দীর্ঘসময় গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবহণ শ্রমিকরাও কোণঠাসা হয়ে পরেছে।
এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যে সন্তানের প্রাতিষ্ঠানিক খরচ যোগাবেন কিভাবে? আর সন্তানের ফি পরিশোধ করলে সাংসারিক ব্যয়ভার বহন করবে কে? নিশ্চয় চেয়ারম্যান-মেম্বার নয়। স্থানীয় সাংসদের দর্শনও পাবেন না। তাকেই সব সামলাতে হবে। এরপর পরিবার নিয়ে বেঁচেও থাকতে হবে?
দেশের মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন টাকার চিন্তায়। বুক ফাটলেও মুখ ফুটে বলতে পারছেন না। এই কঠিন পরিস্থিতির ধাক্কা সামলাতে অনতিবিলম্বে সরকারকেই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘের ভয়ঙ্কর আশঙ্কার প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখতে সরকারের শক্ত অবস্থানের বিকল্প নেই। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে ঘরে রাখতে সরকার কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। এবার খাদ্যাভাবে প্রাণহানি রোধে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। 
তা হলো- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাসের সব ধরনের ফি মওকুফ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা। গত এপ্রিল থেকে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি মওকুফের ঘোষণা এবং এমন নির্দেশনা কার্যকর নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জনবান্ধব সিদ্ধান্ত হবে। মুজিববর্ষে সরকারের এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপে দেশের ছাত্রসমাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পিছপা হবে না। সময়োপযোগী নির্দেশনায় স্বস্তির শ্বাস ফেলে সাধারণ জনতাও সরকারকে সাধুবাদ জানাবে। তাই সরকারীভাবে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি মওকুফের নির্দেশনা প্রদান করা হোক।

সাংসদ আক্রান্ত,নওগাঁয় ২ এমপি, ডিসি, এসপিসহ ৬ জন কোয়ারেন্টাইনে

লিয়াকত হোসেন রাজশাহী :পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ বিস্তারিত

চ্যানেল ২৬ : অন্তত ১১৮টি দেশে থাবা মেলেছে করোনা ভাইরাস। যার উৎপত্তি আড়াই মাস আগে চীনের উহান শহরে। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে এক লাখ ৩৫ হাজারে উপরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছে প্রায় ৫ হাজার।

বাংলাদেশে ৮ই মার্চ তিন রোগী প্রথম শনাক্ত হন। যাদের দু’জন এখন করোনা ভাইরাসমুক্ত। অন্যজনের অবস্থাও স্থিতিশীল বলে সরকার জানিয়েছে। নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার এই পর্যন্ত নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
জনস্বার্থে সংক্রামক আইনের প্রয়োগ উল্লেখ করে সরকার গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এর পাশাপাশি আরো কিছু উদ্যোগ নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমরা করোনা ঠেকাতে দু’মাস আগ থেকেই নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রেখেছি। তিনটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছি। ইউনিয়ন পর্যন্ত কমিটি কাজ করছে। অন্যদেশের মতো আমরা উদাসীন নই। এখন পর্যন্ত দেশ নিরাপদ আছে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।

সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ২১শে জানুয়ারি থেকে ৭ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেবল চীন ফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হলেও ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল বিদেশ ফেরত যাত্রীদেরকেই ডিজিটাল থার্মোমিটার দিয়ে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। যাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবহনেও কর্মরত সকলেরই স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। ২১শে জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ বিদেশ ফেরত যাত্রীকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। কভিড-১৯ সংক্রান্ত সন্দেহজনক মোট ১৪৭ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩ জনকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। আক্রান্ত ৩ জনের মধ্যে ২ জনকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করেছে এবং গতকালই তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি একজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো। পাশাপাশি বিদেশ ফেরত ৪ জন ব্যক্তি হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে আছেন। দুইজন ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যখাতের হট লাইনগুলোতে এ যাবত ১৩ হাজার ৬৪৯টি কল এসেছে।

৩টি কমিটি গঠন: উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং ওসি-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ ১১ সদস্যের আর একটি কমিটি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে সভাপতি হয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ADB, UNICEF, USAID, World Bank-এর প্রতিনিধিসহ ৩১ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলি যখন যেখানে যে যে উদ্যোগ প্রয়োজন তা দ্রুততার সঙ্গে নিতে সক্ষম হবে বলে মন্ত্রণালয় বলছে।

স্বাস্থ্যখাতে অন্যান্য উদ্যোগসমূহ: দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের গৃহ কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কার্যক্রমটি সমন্বয় করছেন আইইডিসিআর, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কার্যালয়। সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করার কার্যক্রম চলছে। সকল হাসপাতালে পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী) সহ অন্যান্য সকল চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রী সরবরাহ ব্যবস্থা হালনাগাদ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউ-তে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সকল হাসপাতাল, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা কার্যালয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন। কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালকে কভিড-১৯ রোগীদের জন্য রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে নির্দিষ্ট রাখা।

মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালকে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট(আইইডিসিআর) ল্যাবরেটরিতে এভাইরাস শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। WHO Ges US-CDC এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চিকিৎসা ও ল্যাবরেটরি শনাক্তকরণের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। আইইডিসিআর-এ কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু আছে। সার্বক্ষণিক সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দৈনিক সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করছে সরকার। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশে বিদেশী দূতাবাসমূহের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকদের এবং বিদেশে বাংলাদেশের যেসব নাগরিক কভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছেন ও কোয়ারেন্টিনে পর্যবেক্ষণে আছেন তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট খোলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন সেমিনারে ও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার-টক শো’তে অংশগ্রহণ করে কভিড-১৯ সম্পর্কে ঝুঁকি সংযোগের দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জনসাধারণের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাবের চাহিদা মেটাতে ও গুজব নিরসনে আইইডিসিআর-এর ওয়েবসাইটে প্রশ্ন ও উত্তর আপলোড করা হয়েছে। জনসাধারণের জিজ্ঞাসার জবাব ও গুজব নিরসনের জন্য ফেসবুক গ্রুপ ‘প্লাটফর্ম’ এর সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য বার্তা প্রচারিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, ইউএস সিডিসি, ইউএসএইড প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা বিদেশি নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করার জন্য সকল বিদেশি দূতাবাসসমূহে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। তারা নিয়মিতভাবে কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কোয়ারেন্টিনকৃত চীনা নাগরিকদের তথ্য প্রেরণ করছেন। বাংলাদেশ থেকে কেউ বিদেশে অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণে গেলে অনুসরণীয় স্বাস্থ্যবিধি প্রস্তুত করা হয়েছে।

আইইডিসিআর জানায়, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি সমন্বয়ে জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি এখন থেকেই স্থানীয় স্কুল-কলেজ-অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন হলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র করা যায় কিনা তার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করবেন। কোনো গ্রাম/পাড়া/মহল্লায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটলে সেখানে সামাজিক(কমিউনিটি) কোয়ারেন্টিন করার প্রস্তুতি এখন থেকেই গ্রহণ করা হবে। বিদেশ থেকে আগত সকল যাত্রীকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিন মেনে চলতে সহায়তা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছেু। বিমান বন্দর, সমুদ্র বন্দর ও স্থল বন্দরে পরিচালিত স্ক্রিনিং কাজের তদারকি করা হচ্ছে। জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রচার/ প্রচারণা করা, গুজব, বিভ্রান্তি দূর করতে সক্রিয় থাকতে হবে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের জন্য আইইডিসিআর ওয়েবসাইট দেখার আহবান জানানো হয়েছে।

সরকারের অন্যান্য বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা বিশেষ করে নিরাপত্তা, কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদিতে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া। কভিড-১৯ সংক্রান্ত যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণে পর্যায় অনুযায়ী আইইডিসিআর-এ কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, সিভিল সার্জন বা ইউএইচএফপিও-এর সিদ্ধান্ত অবহিত হওয়া। বিদেশ থেকে আগত সকলকে আবশ্যিকভাবে নিকটস্থ সিভিল সার্জন/ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করতে হবে। রিপোর্টকালীন সময়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের তারিখ; সর্বশেষ ভ্রমণকৃত দেশ; দেশের সংখ্যা একাধিক হলে বিগত ১৪ দিনে যে সকল দেশ ভ্রমণ করেছেন সে সকল দেশের নাম; ভ্রমণের সময়কাল; দেশে অবস্থানকালীন ঠিকানা, ফোন নম্বর, মোবাইল ফোন নম্বর; দেশে প্রত্যাবর্তনের পরে দেশে অন্য কোন স্থানে/ জেলায় ভ্রমণ করে থাকলে সে স্থানের নাম/ঠিকানা লিখতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উপজেলা চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা করে এ বিষয়ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন ও এ সংক্রান্ত তথ্য স্থানীয় কেবল টিভি অপারেটরদের মাধ্যমে কেবল টিভিতে প্রচার ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কাউকে করোনা আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে পরিচালক/ সিভিলসার্জন/ তত্ত্বাবধায়ক/ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাৎক্ষনিকভাবে আইইডিসিআরকে অবহিত করবেন।

অটো হান্টিং নম্বর চালু: করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জানতে সাধারণ মানুষের জন্য অটো হান্টিং নম্বর ০১৯৪৪৩৩৩২২২ সংযোজন করেছে আইইডিসিআর। এছাড়াও হটলাইনে ১৬২৬৩ তে ফোন করে তথ্য জানা যাবে। আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী দেশে শনাক্ত হওয়ার পর থেকে আইইডিসিআরের হটলাইনে প্রতিদিন শত শত কল আসতে থাকে। প্রথমে চারটি হটলাইন নম্বর থাকলেও পরবর্তীতে আরো ৮টি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায় ১৬২৬৩-সহ মোট ১৩টি লাইন চালু করা হয়। সাধারণ মানুষের অভিযোগ হট লাইনের এসব নম্বর সব সময় ভিজি পাওয়া যায়। মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তাদের মনে জাগ্রত সব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য অটো হান্টিং নম্বরটি সংযোজন করা হয়েছে। এ নম্বরটি টোল ফ্রি করার প্রচেষ্টা চলছে। আইইডিসিআর পরিচালক জানান, সামিত গ্রুপ ৫টি থার্মাল স্ক্যানার মেশিন উপহার দিয়েছে। এই নিয়ে দেশে এখন ১১টি থার্মাল স্ক্যানার মেশিন বিভিন্ন বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরে ব্যবহার করা হবে। করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা সরকার আপাতত একটি ল্যাবরেটরিতে (পরীক্ষাগার) সীমিত রাখতে চায়। বিশ্বব্যাংকের টাকায় কোয়ারেন্টিন (সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ব্যবস্থা) অবকাঠামো গড়ে তোলারও পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তি জারি: করোনা ভাইরাস(কভিড-১৯) মোকাবিলায় জনস্বার্থে আইনের প্রয়োগ বিষয়ে ১২ই মার্চ একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারা, উপ-ধারাকে উল্লেখ করে প্রয়োজনে বর্ণিত আইনগুলো প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সারা দেশব্যাপী হাসাপাতালগুলোতে আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুতি: ঢাকা মহানগরীর ৬টি হাসপাতালে ৪০০ শয্যা, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২টি হাসপাতালে ১৫০ শয্যা, সিলেট মহানগরীতে ২টি হাসপাতালে ২০০ শয্যা, বরিশাল মহানগরীতে ২টি হাসপাতালে ৪০০ শয্যা, এবং রংপুর মহানগরীতে ২টি হাসপাতালে ২০০ শয্যা কভিড-১৯ সংক্রমিত ব্যক্তিদের আইসোলেশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে করোনা মোকাবিলায়

চ্যানেল ২৬ : অন্তত ১১৮টি দেশে থাবা মেলেছে করোনা ভাইরাস। যার উৎপত্তি আড়াই মাস আগে চীনের উহান শহরে। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে এক লাখ ৩৫ হাজারে উপরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা বিস্তারিত

চ্যানেল ২৬ : সামনের দিনগুলোতে কী আসতে চলেছে তা বুঝতে হলে তাকাতে হবে ইউরোপে করোনা সংক্রমণের কেন্দ্র ইতালির সমৃদ্ধশালী শহর লোমবার্ডির দিকে। শহরটির হাসপাতালগুলো বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে সক্ষম। গত সপ্তাহ পর্যন্ত তারা এই ভাইরাসের সঙ্গে পেরে ওঠার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল। কিন্তু এরপরই এখানে নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। হাসপাতালগুলোতে দ্রুত শেষ হয়ে যায় ভেন্টিলেটরস ও অক্সিজেন। কয়েকটি হাসপাতালে কর্মীরা রোগীর চাপে অনেককে বিনা চিকিৎসায় মরতে দিতে বাধ্য হয়।

এ সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা ভাইরাসকে বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করেছে। চীনের বাইরে এরইমধ্যে এতে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫০০০ মানুষ এবং এরমধ্যে মারা গেছে প্রায় ১৫০০।
চীন ছাড়া আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ১১২টি দেশ। মহামারি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো রাষ্ট্রগুলো ইতালি থেকে শুধুমাত্র দু-এক সপ্তাহ পেছনে রয়েছে। মিশর ও ভারতের মতো কিছুটা বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রগুলো আরো পেছনে তবে খুব বেশি নয়।

বর্তমান সময়ে বিশ্বে যত নেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে খুব অল্পই কখনো মহামারি ও এর অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবেলা করেছেন। তবে অনেকেই ২০০৭-০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বলার মতন আছেন। এখন রাজনৈতিক নেতারা দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন যে, তাদেরকে এখন অবশ্যই এই সংকটাবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। তারা কতখানি সফলভাবে এই সংকট মোকাবেলা করতে পারবে তা নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর। এগুলো হলো, ভবিষ্যতের অনিশ্চিত অবস্থা নিয়ে তাদের মনোভাব, দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামো ও দক্ষতা এবং নেতাদের প্রতি জনগণের আস্থা।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ অনেকভাবেই ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এখনো যে ভাইরাসের (সার্স-কভ-২) কারণে কভিড-১৯ হয়ে থাকে সেটিকে বুঝে ওঠা যাচ্ছে না। আরেকটি কারণ হচ্ছে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ধরন নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিভিন্ন অঞ্চল বা দেশ করোনা ভাইরাস চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান, ইতালি কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ায় দেখা গেছে আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে করতেই এটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশে সরকার যখন স্কুল বন্ধ ও জন সমাবেশ নিষিদ্ধ করলো ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
এদিকে, চীন যে সমাধান বের করেছে তার ফলে মানুষকে কঠিনভাবে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে। এজন্য ব্যাপক শ্রম ও অর্থনৈতিক ব্যয় নিশ্চিত করতে হয়েছে। কিন্তু এতে সেখানে সংক্রমণ কমে এসেছে। করোনার বিরুদ্ধে জয় প্রচারে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উহান সফর করেছেন। তবে অনিশ্চয়তা আছে সেখানেও কারণ কেউ এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না যে, আরো এক দফা করোনার প্রাদুর্ভাব সেখানে দেখা দেবে না।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে নেতাদের বুঝে নিতে হবে যে, দেশের মানুষ চীনের মতো কঠিন নজরদারি ও আইসোলেশন মেনে নেবে কিনা। ইতালির কোয়ারেন্টিন অনেকটাই নিজস্ব উদ্যোগে এবং সেখানে মানুষের অধিকার হরণের খুব বেশি ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু অবস্থা যদি চীনের থেকেও ভয়াবহ হয়ে ওঠে তাহলে দেশটির জন্য তা নিয়ন্ত্রণ হবে আরো বেশি ব্যবহুল ও কম কার্যকর। কার্যকারিতা আরো নির্ভর করে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামো ও এর কর্মদক্ষতার ওপরে। হাসপাতাল থেকে করোনা পরীক্ষা ও বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার বিষয়ে দেয়া তথ্যের ক্ষেত্রে অসঙ্গত ও ভুল বার্তা প্রচারের ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি দেশের হাসপাতালগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ এসে পড়বে। বস্তি ও শরণার্থী শিবিরগুলোসহ যেসব অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবার কোনো নিশ্চয়তা নেই সেসব অঞ্চল সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি উন্নত রাষ্ট্রের সবথেকে আধুনিক হাসপাতালগুলোও তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে ব্যর্থ হবে।

তবে এক্ষেত্রে বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার মতো সার্বজনিন ব্যবস্থায় করোনার কিটস সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা সহজ হবে। অপরদিকে সম্পদশালী দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নতির পরেও করোনা মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা বেসরকারি খাতের অধীনে থাকায় সেখানে বিনামূল্যে সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। দেশটির জনসংখ্যার মধ্যে ২৮ মিলিয়ন মানুষের কোনো ইন্স্যুরেন্স নেই। আরো আছেন ১১ মিলিয়ন অভিবাসী। এছাড়া, অনির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ আছেন যারা ব্যয়ের কথা ভেবে করোনা পরীক্ষা ও আইসোলেশনে থাকার থেকে বিরত থাকবে।

তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে নেতাদের ওপর জনগণের বিশ্বাস, সেখানেও অনিশ্চয়তার প্রভাব রয়েছে। জনগণের আস্থাই কোরান্টিন বা আইসোলেশনে থাকার ব্যাপারে নেতাদের কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর বৈধতা প্রদান করবে। ইরানের সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশটির মধ্যে অজনপ্রিয়। ধারণা করা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা লুকাচ্ছে দেশটি। এসব কারণে, অনেক ধর্মীয় নেতা তাদের দরবার বন্ধে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ভাইরাস ছড়িয়ে যাচ্ছেই।

গুজব ও ভয় ছড়ানোর পেছনে সবথেকে বড় কারণ হলো, মানুষ মনে করে রাজনীতিবিদরা সত্যি গোপন করছে। যখন রাজনীতিবিদরা জনগণের মধ্য থেকে ভয় দূর করতে ভুল ধারণা দিয়ে বেড়ায় তারা আসলে এর মধ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তোলে। এখনো রাজনীতিবিদরা জানে না কীভাবে মহামারি সামলাতে হয় ও এ বিষয়ে কথা বলতে হয়। নির্দিষ্ট করে বললে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহে ইউরোপের ওপর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। কিন্তু এর ফলে তেমন কোনো লাভ হবে না কারণ এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। যখন মানুষ তার বন্ধু ও আত্মীয়ের মৃত্যু দেখতে শুরু করবে ট্রাম্প তখন বুঝতে পারবেন যে, মহামারিকে বিদেশি, ডেমোক্রেট বা সিএনএনের ষড়যন্ত্র বলে আটকানো যায় না।

রাজনীতিবিদদের তাহলে কী করা উচিত? প্রতিটা রাষ্ট্রের উচিত একটি ভারসাম্য নিশ্চিত করা। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া যেভাবে গণহারে পরীক্ষা চালিয়েছে এটি থাকা প্রয়োজন, পাশাপাশি তাদের মতো নাগরিকের প্রাইভেসি ঝুঁকিতে না ফেলে কাজ করে যাওয়া প্রয়োজন। সরকারগুলোর উচিত মহামারির বিষয়ে অগ্রিম সতর্ক হওয়া। কারণ, প্রাথমিক অবস্থায় এর বিস্তার থামাতে জনসমাবেশ নিষিদ্ধের মতো সিদ্ধান্তগুলো বেশ কার্যকরী।

এজন্য আদর্শ উদাহরণ হচ্ছে সিঙ্গাপুর। দেশটিতে আশঙ্কার থেকে সংক্রমণ অনেক কম। এজন্য সেখানকার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। সেখানে আছে বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। একইসঙ্গে তারা পূর্ববর্তী সার্স থেকে শিখেছে। জনগণের মধ্যে দেশটি যেসব নির্দেশনা দিয়েছে তা ছিল বিজ্ঞান ভিত্তিক ও জনগণও তা বিশ্বাস করেছে। কিন্তু পশ্চিমের দেশগুলোতে যেসব নেতা ২০০৮ সালের মন্দার পর ক্ষমতায় এসেছেন তাদের জন্য করোনা ভাইরাস একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বায়ন ও বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা করছেন। তারা বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করছে। কিছু ক্ষেত্রে মহামারি তাদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সাহায্য করছে। অনেক রাষ্ট্রই হয়তো এখন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেবে। সংকট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়তো শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বায়ন থেকে সরে আসবে।

পাশাপাশি, মহামারির কারণে চিকিৎসক, বিজ্ঞানি ও নীতি নির্ধারকরা আবারো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। মহামারি নিশ্চিতভাবে বৈশ্বিক সংকট। দেশগুলোর উচিত করোনার চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও ভ্যাক্সিন আবিষ্কারে একসঙ্গে কাজ করা। নাগরিকরা এবার হয়তো তাদের সরকারকে বিভক্ত রাজনৈতিক তর্ক বাদে সত্যিকারের কোনো সমস্যা মোকাবেলা করতে দেখবে। প্রথম থেকেই এটি হওয়া উচিত ছিল রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য।

ইকোনমিস্টের রিপোর্ট : করোনা ভাইরাস ও মহামারির রাজনীতি

চ্যানেল ২৬ : সামনের দিনগুলোতে কী আসতে চলেছে তা বুঝতে হলে তাকাতে হবে ইউরোপে করোনা সংক্রমণের কেন্দ্র ইতালির সমৃদ্ধশালী শহর লোমবার্ডির দিকে। শহরটির হাসপাতালগুলো বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে সক্ষম। বিস্তারিত

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯ তম জন্মদিনে তার প্রতিকৃতিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আজ সকালে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আবারও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯ তম জন্মদিনে তার প্রতিকৃতিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আজ সকালে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে প্রতিকৃতিতে বিস্তারিত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ট্রাফিক আইন ভেঙে, কেউ যদি জনগণের দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। সে যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রোববার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে (১৭-২৩) ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধনকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মীর রেজাউলসহ ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমি রাজনীতিবিদ, বড় ব্যবসায়ী, আমলা, আইনজীবীসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ করবো। আপনারা ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। যার ফলে রাস্তা-ঘাট কাটাছেঁড়া হয়েছে। আমরা এ কাটাছেঁড়ার দুর্ভোগের কবল থেকে, মানুষদের বাঁচাতে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন।

গাড়ির চালকদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমি চালক ভাইদের অনুরোধ করবো। আপনারা বেশি গতিতে গাড়ি চালাবেন না।একে অন্যের সঙ্গে পাল্লাপাল্লি করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়বেন না। তাছাড়া কোনো ক্রমেই মোবাইল ফোন কানে নিয়ে গাড়ি চালাবেন না। আমরা যদি কাউকে এই অবস্থা দেখতে পাই, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গাড়ির মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিবহনের মালিক যারা আছেন। তাদের বলবো, আপনারা সর্বপ্রথম গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করুন। তারপর ফিটনেস যাচাই করে গাড়ি রাস্তায় নামান। আর চালকদের চুক্তি ভিত্তিতে না, মাসিক বেতন দিন। তাহলে দেখবেন ঝুঁকির পরিমাণ কমে আসবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া জানান, রাজধানীর গুলশান এলাকার চক্রাকার (সার্কুলার) বাসের মতো ধানমন্ডি, মতিঝিল ও উত্তরা এলাকায়ও চক্রাকার বাস চালু করা হবে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই কার্যক্রম চালু হবে বলে

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ও বিআরটিএ’র সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। বিআরটিএ বাসগুলো চালু করবে। এই চক্রাকার বাস চালু হলে যানজট কিছুটা কমে আসবে। কারণ, তখন মতিঝিলের বাস উত্তরা বা ধানমন্ডি যাবে না।

আইন ভঙ্গ করে জনদুর্ভোগ বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ট্রাফিক আইন ভেঙে, কেউ যদি জনগণের দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। সে যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোববার (১৭ মার্চ) বিস্তারিত

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট। ৭ দিনের ব্যবধানে আগামীকাল সোমবার (১৭ মার্চ) দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

ওইদিন দেশের ১৬টি জেলার ১১৬ উপজেলায় একযোগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। 

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে এরইমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল সংশ্লিষ্ট উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

ভোটের আগের দিন রবিবার (১৭ মার্চ) ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে কোনও ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এ ব্যাপারে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

ইসি সূত্র জানিয়েছে, এই ১১৬টি উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৭ হাজার ৩৯টি, ভোটার ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৬ জন।

এদিকে সোমবারের ভোটকে সামনে রেখে গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকেই উল্লিখিত ১১৬ উপজেলায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করা হয়েছে। 

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। যদিও বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য মোতাবেক, দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৩১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যেখানে চেয়ারম্যান পদে ৩৭৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩৯ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯৪ জন ভোটে লড়বেন। 

এর আগে গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে দেশের ৭৮ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হয়। যেখানে ভোট পড়ে ৪৩ শতাংশ। 

উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপের, ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের ভোট হবে এবং পঞ্চম ও ১৮ জুন শেষ ধাপের ভোট হবে।

রাত পোহালেই ১১৬ উপজেলায় ভোট

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট। ৭ দিনের ব্যবধানে আগামীকাল সোমবার (১৭ মার্চ) দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  ওইদিন বিস্তারিত

বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

রোববার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। তার জন্ম না হলে কোনোদিন এ দেশের জন্ম হতো না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই দিন সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে এ জাতির আশা আকাঙ্ক্ষাকেও হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের জনগণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর আস্থাশীল। দেশের আপামর জনগণের অবিচল আস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে শেখ হাসিনা এগিয়ে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই। গণবিচ্ছিন্ন এ দলের কাছে জনগণ কিছু আশাও করে না। এতিমের টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও লুটপাট এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে হানিফ বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। তবে আমাদের নেতাকর্মীরা অনেক সময় এমন কাজ করেন, যেটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিরুদ্ধে যায়। সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার

বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। রোববার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিস্তারিত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শোকসভা আয়োজন করা হয় নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। ওই শোকসভায় যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন। সেখানে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন চেলসি ক্লিনটন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, এতে দেখা যায় এক তরুণী চেলসিকে আক্রমণাত্মক কথা বলছেন। তার অভিযোগ, নিউ জিল্যান্ডে ভয়াবহ ওই হামলার পেছনে চেলসির বক্তব্যেরও দায় রয়েছে।

বিল ক্লিনটন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন এখন অন্তঃসত্ত্বা। 

শুক্রবার (১৫ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে অর্ধশত মানুষ হত্যার নিন্দা জানানোর জন্য ওইদিনই শোক সভায় গিয়েছিলেন তিনি।

সিএনএন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে ওই আচরণের ভিডিও দেখে লোকজন ঘটনাটির নিন্দা জানানোর পর ভিডিও পোস্টকারী টুইটার থেকে সরিয়ে নেন।

ভিডিওতে তরুণীর চেলসিকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার মতো মানুষ এবং তোমরা যেসব কথা বিশ্বে ছড়িয়ে দাও তার ফলই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।’

‘আমি তোমাকে জানাতে চাই যে তুমি গভীরভাবে এটা উপলব্ধি কর- তোমরা যেসব কথা বলো তার কারণে ৪৯ জন মানুষ মারা গেছে।’

জবাবে চেলসি ক্লিনটনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি খুব দুঃখিত যে, তুমি এভাবে ভাবছ।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জুমার নামাজের সময় মসজিদে হামলা চালায় মুসলিম বিদ্বেষী অস্ট্রেলিয়ান এক নাগরিক। প্রথমে আল নূর মসজিদে হামলা চালায় সে। পরে পার্শ্ববতী লিনউড মসজিদ হামলা চালায়। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচার করে হামলাকারী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শোকসভায় তোপের মুখে ক্লিনটন কন্যা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শোকসভা আয়োজন করা হয় নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। ওই শোকসভায় যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন। সেখানে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বিস্তারিত

মসজিদে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন মুসল্লি। জুমআর নামাজের জন্য ইমাম জামাল ফাওদা বয়ান শুরু করেছিলেন মাত্র পাঁচ মিনিট আগে। মসজিদে হঠাৎ তিনটি গুলির শব্দ। এরপর সামনে বসে থাকা মুসল্লিরা দ্বিগ্বিদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।

তিনি বিস্মিত হয়ে ভাবছিলেন, হয়তো পাশের কিছু তরুণ খেলাধুলা করছে অথবা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে; যেখান থেকে শব্দ আসছে। শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ও সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচার গল্প জানিয়েছেন দুই ইমাম জামাল ফাওদা এবং ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ।

ওই হামলার পর প্রথমবারের মতো কোনো গণমাধ্যম হিসেবে দেশটির ইংরেজি দৈনিক নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তার কণ্ঠে উঠে এসেছে হামলাকারীর তাণ্ডব ও চোখের সামনে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর চিত্র।

জামাল ফাওদা বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। এবার ঘাতক সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। আলজেরীয় বংশোদ্ভূত এই ইমাম দেখেন এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়তে ছুড়তে আসছে। এমন পরিস্থিতি মসজিদের জানালা ভেঙে লাফিয়ে দৌড় শুরু করেন তিনি।

ফাওদা বলেন, পরে গুলি আরো তীব্র আকার ধারণ করে। আক্রমণকারীর মাথায় হেলমেট, চোখে চশমা ও শরীরে সামরিক বাহিনীর পোশাক। হাতে ছিল আধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুক।

‘তখন মসজিদের ভেতরের লোকজন ভেঙে যাওয়া জানালার দিকে দৌড়াতে থাকেন। অধিকাংশ মানুষ এই জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন। যে কারণে মসজিদের ডান পাশের অল্প কয়েকজন খুন হন। কিন্তু বাম পাশের মুসল্লিরা একজন আরেকজনের ওপর পড়ে যান। এভাবে তারা একটি স্তুপে পরিণত হন। এসময় হামলাকারী পাশে দাঁড়িয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’

ফাওদা বলেন, মানুষকে মারতে বন্দুকধারী ধারাবাহিকভাবে একের পর এক কক্ষে যান। যখনই সে কোনো পাশ থেকে শব্দ পেয়েছে তখন সেই পাশে গিয়ে গুলি করেছে। সে ঠান্ডা মাথায় মানুষকে ঘিরে রেখেছে, বের হওয়ার শব্দ পেলেই সেদিকে ছুটে গিয়ে গুলি করেছে। সে শুধুই গুলি ছুড়েছে, গুলি ছুড়েছে, গুলি ছুড়েছে।

তিনি বলেন, এমনকি ধোঁয়ার জ্বালায় আমরা নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। সর্বত্রই বুলেট উড়ছে। যখন আমরা বেরিয়ে আসলাম, তখন নিশ্চিত ছিলাম না যে সে চলে গেছে কি-না। কারণ সেখানে তখন নীরবতা ছিল। আমরা ধারণা করছিলাম, সে লুকিয়ে আছে, অপেক্ষা করছে…আমরা তাকে দেখতে পাইনি। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।

‘সে ফিরে এল এবং আবার গুলি শুরু করল। যারা লুকিয়েছিল তারা বের হওয়ায় গুলির শিকার হলো। কারণ আমরা জানতাম না সে আবার আসছে। নিহতদের শরীরে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করেছে হত্যাকারী।’

যারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন তাদের অনেকেই পার্ক করে রাখা গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন। অনেকেই লাফিয়ে প্রাচীর পার হয়ে চলে যান। একজন মুসল্লি জরুরি নাম্বার ১১১-এ ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন। হামলাকারী তাকে দেখে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। মসজিদের প্রধান কক্ষে অন্যান্যদের সঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন ফাওদা। এখানেই ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ইমাম বলেন, বন্দুকধারী জানতো না যে নারীরা আলাদা একটি কক্ষে লুকিয়ে আছেন। তারা বেঁচে গেছেন। তবে কয়েকজন নারী পালানোর চেষ্টা করেছেন। বন্দুকধারী দেখে ফেলায় তাদের গুলি করে হত্যা করে। ফাওদা বলেন, ‘এখনো আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে, আমি বেঁচে আছি।’

অবশেষে বন্দুকধারী নিজের গাড়িতে চড়ে শহরের অন্যপ্রান্তের লিনউড মসজিদের দিকে যায়। ওই মসজিদে গিয়ে এই বন্দুকধারী আরো কয়েকজনকে হত্যা করে।

লিনউড মসজিদের ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ। তিনি বলেন, মসজিদে সেই সময় প্রায় ৮০ জন মুসল্লি ছিলেন। ঘাতক বন্দুকধারী মসজিদের বাইরে গুলিবর্ষণ শুরু করে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে। মসজিদের বাইরে দম্পতিকে হত্যা করে সে। গুলিবর্ষণের সময় ইমাম জিরুল্লাহ মসজিদের ভেতরে ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি দেখলাম যে মুসল্লিদের গুলি চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, তখন আমি মুসলিম ভাইদের বললাম, শুয়ে পড়ুন, শুয়ে পড়ুন। কেউ একজন মসজিদের বাইরে আমাদের ভাইদের হত্যা করছে।’

‘কেউই আমার কথা শুনল না। দুর্ভাগ্যবশত হামলাকারী পেছন দিক থেকে এসে জানালা দিয়ে আমাদের এক ভাইয়ের মাথায় গুলি করল। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গুলি চালাতে থাকল। যখন জানালার গ্লাস ভেঙে গেল তখন সবাই শুয়ে পড়ল। সবাই বুঝতে পারল মেঝেতে শুয়ে পড়তে হবে।’

আব্দুল আজিজ নামের এক মুসল্লির সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসেন জিরুল্লাহ। তিনি বাইরে এসে একটি ক্রেডিট কার্ড মেশিন হাতে তুলে নিয়ে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকেন, এদিকে আসো। তখন হামলাকারী তার গাড়ির দিকে দৌড়ে যায়। এ সময় আব্দুল আজিজ তার ক্রেডিট কার্ড মেশিন হামলাকারীর দিকে তাক করে পেছন পেছন দৌড় শুরু করেন।

বন্দুকধারী আবারো গুলি চালাতে শুরু করে। এসময় জিরুল্লাহ মসজিদের প্রধান দরজা বন্ধ করে দিয়ে মসুল্লিদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন। এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি যখন চলছে, তখন মসজিদের ভেতরে আজিজের ১১ ও ৫ বছর বয়সী দুই সন্তান ভয়ে কুঁকড়ে গেছে। আজিজকে লক্ষ্য করে বন্দুকধারী গুলি চালায়; তিনি গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়েন।

পরে বন্দুকধারীর একটি বন্দুক পান আজিজ। হাতে তুলে নিয়ে বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে ট্রিগার চাপেন, কিন্তু বন্দুক ছিল ম্যাগজিন শূন্য। বন্দুকধারী আবারো গাড়ির দিকে ছুটে আসে, দ্বিতীয় বন্দুক হাতে তুলে নেয়। আজিজ বলেন, হামলাকারী গাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমি বন্দুকটি হাতে নিয়ে গাড়ির জানালা লক্ষ্য করে তীর ছুড়ে মারার ন্যায় নিক্ষেপ করি। সেটি গিয়ে বন্দুকধারীর জানালায় আঘাত হানে এবং জানালার গ্লাস ভেঙে যায়।

জানালার গ্লাস ভেঙে যাওয়ায় বন্দুকধারী কিছুটা ভয় পায় এবং গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বন্দুকধারী গালিগালাজ করে। সবাইকে মেরে ফেলবে বলে চিৎকার করে। পরে গাড়ির পেছন পেছন দৌড়াতে থাকেন আজিজ। কিছুদূর যাওয়ার পর আজিজ ফিরে এলেও ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়ায় গাড়ি থেকে বন্দুকধারী ধরে ফেলেন দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।

দুই ইমামের কণ্ঠে মসজিদে হামলার শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা

মসজিদে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন মুসল্লি। জুমআর নামাজের জন্য ইমাম জামাল ফাওদা বয়ান শুরু করেছিলেন মাত্র পাঁচ মিনিট আগে। মসজিদে হঠাৎ তিনটি গুলির শব্দ। এরপর সামনে বসে থাকা মুসল্লিরা বিস্তারিত

অনলাইন ডেস্ক: মাদারীপুরের শিবচরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ২২ শত পরিবারের মাঝে খাবার সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে চৌধুরী ফাতেমা বেগম পৌর অডিটোরিয়াম থেকে দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে ইউনিয়নে ইউনিয়নে পৌঁছে দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য।

এ সময় পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. লতিফ মোল্লাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিবচর পৌরসভার মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান বলেন, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপির পক্ষ চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ইউনিয়নে ইউনিয়নে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ‘করোনা সংক্রমন রোধে শিবচর বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে চিফ হুইপ স্যারের পক্ষ থেকে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়েছে।’

চিফ হুইপের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খাবার বিতরণ

নিরেন দাস,জয়পুরহাটঃ- জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের চকবিলা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, প্রবীণ আওয়ামী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মহুরম গোলাম রসুল চৌধুরীর সুযোগ্য পুত্র রুকিন্দিপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান,জেলা যুবলীগ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক,৮০ দশকের সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমান আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর ২০১১ সালে আক্কেপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত কবলিত আক্কেলপুর উপজেলাকে আওয়ামীলীগের ঘটিতে পরিণত করেন। তিনি দলের একটি প্রধান দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আক্কেলপুরে আওয়ামী লীগ পরিবারকে বেগবান করার জন্য তিনি দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করেন যার সুফলে সুসংগঠিত হয় একটি শক্তিশালী উন্নয়নমুখী আওয়ামীলীগ পরিবার। এদিকে দলের সাধারন সম্পাদক আবার অন্যদিকে রুকিন্দিপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাই তিনি তিনবছর চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করে স্বেচ্ছায় চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দিয়ে আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং এমন উদারতাকে দলীয় কিছু নেতারা গোপনে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপির প্রার্থী পক্ষ নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অল্প ভোট পরাজিত করাতে বাধ্য করান। এরপর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে ২০১৫ সালে আক্কেলপুর পৌরসভা নির্বাচন করেন যে নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন একই সাথে আক্কেলপুর পৌরসভায় ইতিহাস রচনা করেন যে ১৯৯৯ সাল স্থাপিত এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেনি যা তিনিই সর্বপ্রথম আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়রের চেয়ারে বসে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। তার এমন (গডগিফট) রাজনৈতিক প্রতিভা আর কঠোর পরিশ্রমে একটি সুসংগঠিত আওয়ামীলীগ পরিবার তৈরি করার পরেও এবং তার দলীয় ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমর্থন থাকার শর্তেও তিনি গত ১৪ এ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আক্কেলপুর পৌরসভা নির্বাচনে স্বেচ্ছায় মেয়রের পদ ছেড়ে দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শহীদুল আলম চৌধুরী তিনি সমর্থন দেন এবং তাকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মেয়র পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করিয়ে আর একটি ইতিহাস গড়েছেন। এদিকে পৌর নির্বাচনের আমেজ শেষ হতে না হতেই কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্তে আসছে ১১ এ মার্চ আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনের ঘোষণা। ইতিমধ্যে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে দিনরাত দেদারে পরিশ্রম করছেন দলের সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় আক্কেলপুর সরকারি মুজিবর রহমান সরকারি কলেজ মাঠে সম্মেলন কে সফল করার লক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর উপজেলা,পৌর,ইউপি আওয়ামীলীগ সহ সকল সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দদের উপস্থিতিতে তার বক্তব্যে ঘোষনা দিয়ে বলেন মেয়র পদ থেকে যেমন স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছি ঠিক তেমনি ১১ এ মার্চ আসন্ন আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনেও স্বেচ্ছায় সাধারন সম্পাদক পদ ছেড়ে দিচ্ছি এমনকি উক্ত সম্মেলনে আমি কোন প্রার্থীও হবোনা বলেও জানান। তার এমন স্বেচ্ছায় সকল পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষনার পর থেকেই উপজেলা আওয়ামীলীগ পরিবারের তৃনমূল বঞ্চিত নেতাকর্মীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।আবার অনেকেই ভাবছেন তিনি চলে গেলে এমন শক্তিশালী আওয়ামীলীগ আর কোন নেতা কি তৈরি করতে পারবে। এই অবসর চৌধুরী কে নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ঝড় বইছে আক্কেলপুর পৌর সদর সহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন গুলোতে কেউ হারাতে চাচ্ছেনা এমন একজন পরিশ্রমী অভিভাবক কে। এমনকি তিনি যেন আক্কেলপুরের রাজনীতি থেকে শড়ে না জান এমন বিষয়টি নিয়েও অসংখ্য নেতাকর্মীরা তাদের ফেইসবুক আইডি থেকে জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ,কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সাংসদ আক্কেলপুর, কালাই ক্ষেতলাল উপজেলা বাসীর অভিভাবক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন-এমপি”র সুদৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখছেন যে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর যেন আক্কেলপুরের রাজনীতি থেকে না যেতে না পারেন আপনি অভিভাবক আপনি তাকে যা বলবেন তিনি তাই শুনবেন। গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসরের পক্ষে নেতাকর্মীদের সর্মথক ও দলীয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা শর্তেও তিনি কেন-? স্বেচ্ছায় সকল পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এমন বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে,আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি করি,তাই আমি বিশ্বাস করি একজন ব্যক্তি একই জায়গায় বসে নেতৃত্ব দেয়া ঠিক হবে না। কেননা দলের অসংখ্য ত্যাগী প্রতিভাবান নেতৃত্বদানকারীরা রয়েছেন তাদেরও সুযোগ দেয়া উচিৎ বলেই আমার প্রতি নেতাকর্মী সহ দলীয় ব্যাপক সর্মথক থাকা শর্তেও স্বেচ্ছায় আমি সকল পদ ছেড়ে দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন যে আমার এ ঘটনা হয়তো বাংলাদেশে একটি ইতিহাস হবে যে তিনি চেয়ারের লোভ না করে দলের অন্যদের দায়িত্ব দিতে স্বেচ্ছায় সকল পদ ছেড়ে দিয়েছেন। আপনি কি-? শুধু পদই ছেড়ে দিচ্ছেন নাকি আক্কেলপুর তথা আওয়ামী রাজনীতিই ছেড়ে দিচ্ছেন এমন জবাবে তিনি বলেন, কখনওই না আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন আমি তারই সন্তান আমার জীবন যতদিন থাকবে আওয়ামীলীগের রাজনীতি থেকে কেউ আমাকে সরাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। এমনকি অনেকেই মনে করছেন আমি স্বেচ্ছায় সকল পদ ছেড়ে দিচ্ছি বলে হয়তো আক্কেলপুর থাকবো না এমন ধারণা টি তাদের ভুল কেননা আমি আক্কেলপুরের সন্তান আমার মৃত্যুর পর দাফনো হবে এই পবিত্র আক্কেলপুরের মাটিতে। তাই আপনাদের মাধ্যমে সকলকে জানাতে আমি বিগত দিনে আক্কেলপুর বাসীর সুখেদুঃখে যেমন পাশে ছিলাম, ঠিক তেমনি আগামীতেও সকলের সুখেদুঃখে পাশে থাকবো। আর এতে আমি প্রমাণ করে দেখাবো যে শুধু চেয়ারে বসেই জনগণের সেবা করা যায় তা তা ভুল, চেয়ার ছাড়াও যে জনগণের সেবা করা যায় তা আমি করে দেখাবো বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

Niren sent Today at 2:06 AM


স্বেচ্ছায় মেয়র ও দলীয় পদ ছেড়ে দেয়াই পরিশ্রমী নেতা অবসর চৌধুরীকে নিয়ে হতাশ আওয়ামী পরিবার


ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০১৯ (চ্যানেল ২৬) : ঝুঁকি কমাতে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ‘ইন অরবিট’ (কক্ষ পথ) বীমা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ বীমা অংক বাংলাদেশি টাকায় ১৩৪ কোটি ২৮৮ লাখ টাকা। বীমার প্রিমিয়াম ধরা হয়েছে বাংলাদেশি টাকায় ৫ কোটি ৬৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ভ্যাট হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে বাংলাদেশি টাকায় ৮৫ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা।

ইতিমধ্যে সাধারণ বীমা সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্প সমূহ যেমন- মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথ দোহাজারী থেকে কক্সবাজার, পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক, রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, বঙ্গবন্ধু টানেল ও মেট্টো রেল প্রকল্পগুলোর বীমা ঝুঁকি গ্রহণ করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

এ বছরের ১১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত এক বছরের জন্য ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়াকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে করা হচ্ছে এ বীমা পলিসিটি। এর ফলে দেশের সম্পদ দেশেই থাকছে বলে মনে করেন বীমা সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, অনেক চেষ্টার পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বীমা ঝুঁকি গ্রহণ করেছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন। দেশের সম্পদ দেশে রাখতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে দেশের বীমার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে এবং সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে দেশি বীমা কোম্পানির পাশাপাশি বিদেশি বীমা কোম্পানি গুলো বীমা করতে উৎসাহিত হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বীমা ঝুঁকি গ্রহণ করল সাধারণ বীমা কর্পোরেশন

নিউজ ডেক্স: আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নর্বাচনে ৩২নং ওয়ার্ডে সবচেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ ও গণমানুষের নেতা জাতীয় পাটির ঢাকা মহানগর-উত্তরের প্রচার সম্পাদক ও মোহাম্মদপুর থানা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক এস.এম হাসেম।

সরোজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে, তারা জানান এস.এম হাসেমকে ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চাই। জনশ্রুতি রয়েছে, তরুন এ জননেতার কাছে যেকোন পেশা শেণীর মানুষই তাদের সমস্যা নিয়ে তার খুব কাছাকাছ যেতে পারেন এবং তিনি ভূক্তভোগীদের কথা মন দিয়ে শুনে তাতক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। এ কারণে এলাকার জনগণ তাকে মানবতার মুকুল নামে উপাধি দিয়েছে।

এলাকাবাসীর আরো জানান, এলাকা আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, চাঁদাবাজী সন্ত্রাস-মাস্তানি বন্ধ এবং দূর্নীতির জঙ্গীবাদ-এর বিরুদ্ধে তাঁর শক্ত অবস্থান, তাই এই ৩২নং ওয়ার্ডে এস.এম হাসেম জনপ্রিয়তার শীর্ষে বা বিকল্প কোন নেতা এখনও এই ৩২নং ওয়ার্ডে সৃষ্টি হয়নি।

তরঙ্গ নিউজের সাথে এক সাক্ষাত্কারে কাউন্সিলর প্রার্থী এস.এম হাসেম বলেন, আমি এলাকাবাসীর সেবা করার জন্য নির্বাচন করবো্ জনগন আমাকে নির্বাচিত করলে এলাকার সকলের সহযোগীতা নিয়ে জনগনের জন্য কাজ করে যাবো।আমার বিশ্বাস জনগণ আমাকে যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

এস.এম হাসেম ৩২নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের একান্ত আপনজন হয়ে প্রতিদিন পাশে থাকতে চাই আপনাদের হাসি-আনন্দ ও সুখ-দুঃখে। এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক দাবী আদায়ের সহযাত্রী ও সব ধরনের সামাজিক কর্মকান্ডে সব সময় আপনাদের পাশে থাকবো। যদি মনে করেন আপনাদের চাওয়া পাওয়ার কথা উচ্চারিত হোক কোন বলিষ্ঠ কন্ঠে তবে আমার বলতে দিন।আপনাদের জন্য আমাকে কিছু করার সুযোগ দিন।আমি আপনাদের ভিড় থেকেই উঠে আসা আপনাদেরই একজন। আপনারা ভালো থাকলে ৩২নং ওয়ার্ডবাসী ভালো থাকবে,আমাদের রাজধানী ঢাকা ভালো থাকবে এবং ভালো থাকবে আমাদের সোনার বাংলাদেশ। তাই সকল দিক বিবেচনা করে আমাকে আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর এর ৩২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে আমাকে একটি ভোট দিন।

ডিএনসিসিনির্বাচনে ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এস.এম হাসেম

লোহাগাড়া প্রতিনিধি মোঃ কাউছার আলম:০৪/১০/২০১৯ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া আমিরাবাদ হোটেল ও আই সি হলরুমে জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এমএ তাহের (তারেক) জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক লোহাগাড়া শাখা সাংবাদিক মুহাম্মদ ঈসা পবিত্র কোরআন তেলােওয়াতের মাধ্যমে সভা অনুষ্ঠান শুরু করে। সঞ্চালনা ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন লোহাগাড়া উপজেলা শাখা, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক , লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সম্মানিত সভাপতি, বাংলাদেশ ভূমি হীন আন্দোলন লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সম্মানিত সভাপতি , জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক , দৈনিক ওলামা কন্ঠ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি এডভোকেট মুহাম্মদ মিয়া ফারুক, সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ, আরো উপস্থিত ছিলেন তুষার আহামেদ কাইছার শিহাব উদ্দিন শিহাব চ্যানেল কর্ণফুলি, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বান্দরবান পার্বত্য জেলার কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল কাশেম, জেলা কৃষক লীগ নেতা নূরুল ইসলাম ভান্ডারী, ইসমাইল হোসেন সোহাগ সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন লামা উপজেলা শাখা,জিয়া হোসেন, বাবুল চৌধুরী, মোঃ কাউছার আলম, মুহাম্মদ ঈসা দপ্তর সম্পাদক জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন লোহাগাড়া উপজেলা শাখা , আব্বাছ উদ্দিন দৈনিক মানবাধিকার ক্রাইম বার্তার সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া প্রতিনিধি ও জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন লোহাগাড়া উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য , রফিকুর রহমান দৈনিক মানবাধিকার ক্রাইম বার্তা লোহাগাড়া প্রতিনিধি ও জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন লোহাগাড়া উপজেলা শাখা কার্যনির্বাহী সদস্য, মুহাম্মদ ফাহিম রিপোর্টার, জাতীয় দৈনিক মুক্তালোক, জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন লোহাগাড়া উপজেলা শাখা কার্যনির্বাহী সদস্য, আরো উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম, রমজান আলী, মুহাম্মদ এমরান সহ প্রমুখ। উল্লেখ্য যে, উক্ত এ বৈঠকে সংগঠনের লোহাগাড়া উপজেলা শাখার জন্যে স্থায়ী অফিসের ব্যবস্থা, শিক্ষা সফর ও সাংবাদিকদের কল্যাণে বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নিরেন দাস(জয়পুরহাট)প্রতিনিধিঃ- জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বুড়াইল সরদার পাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেড়ধরে পরিকল্পিত যোগসাজশে হত্যার উদ্দেশ্যে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে (এসএসসি পরীক্ষার্থী) জাফিকুর রহমান অমি (১৫) ও তার মা মোছাঃ আছমা খাতুন (৪০) কে পিটিয়ে গুরুতর জখম ও শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা অর্থবান ও ক্ষমতাধর হওয়াই আহতরা যেন থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করতে যায় এ জন্য প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখালে বিষয়টি আহত পরীক্ষার্থী অমি”র চাচা মোঃ আব্দুল হাই মিলন জানতে পেরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে হামলাকারী ৬ জনের বিরুদ্ধে (৫-ফেব্রুয়ারি) ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। হামলাকারী আসামীরা হলেন,উপজেলার বুড়াইল সরদার পাড়া গ্রামের মৃতঃ- মোত্তালেব সরদারের ছেলে (১) মেহেদি হাসান,(২) মোস্তাক হোসেন নাহাজ,(৩) মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন জগলুল,(৪) আসামী মেহেদির স্ত্রী মোছাঃ আনোয়ারা আক্তার নূপুর,(৫) আসামী মোস্তাকের স্ত্রী মোছাঃ নাজমুন নাহার ও একই গ্রামের মোঃ মাফতুম হোসেনের স্ত্রী (৬) পাখি বেগম। উক্ত মামলার বিবরণ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, (গত ৩ এ-ফেব্রুয়ারি) সোমবার শুরু হয় এসএসসি-সমমান-২০ পরীক্ষা প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষে ওই দিন সন্ধায় অমি তার নিজ ঘরে পড়ছিল হঠাৎই সে শুনতে পারে বাহিরে বেজোড়ে চিৎকার চেঁচামেচি হচ্ছে যা পূর্ব শত্রুতার জেড়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়ির সামনের একটি মুরগির ঘর উল্লেখিত আসামীরা ভাঙচুর করছে এমনি অবস্থায় অমি”র মা তাদের বাঁধা দিতে গেলে আসামীদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল দ্বারা মাথায় আঘাত করছে পাশাপাশি পড়নের কাপড়চোপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করার দৃশ্য দেখে অমি ঘর থেকে দৌড়ে গিয়ে তার মা কে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ করে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে মাথায় লোহার রড দ্বারা আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার মা ছেলেকে বাঁচাতে চিৎকার দিলে স্থানীয় পার্শ্ববর্তী মোঃ মনতাছির মামুন সনি,মোছাঃ শাহানা আক্তার ও লাইজু বেগম সহ আরও অন্যান্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়,ততক্ষণিক ওই স্থানীয়রা অমি ও তার মা কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ভ্যানযোগে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে তারা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান,হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থী”র চাচা আব্দুল হাই মিলন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দিলে মামলাটি আমলে নিয়ে,আমার থানা পুলিশ এ ঘটনা তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এতে আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান

ক্ষেতলালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তার মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে জখম”৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা।

স্টাফ রিপোর্টার : বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ৷ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘােষণা করা হয়।

বিভিন্ন ইউনিয়নে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হলেন, ১ নং গৌরম্ভা ইউনিয়নে মোঃ রাজীব সরদার, ২ নং উজলকুড় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুন্সী বোরহান উদ্দিন জেড, ৩ নং বাইনতলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ ফকির, ৪ নং রামপাল সদরে রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন হাওলাদার, ৫নং রাজনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি সরদার আঃ হান্নান ডাবলু, ৬নং হুড়কা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন সভাপতি তপন গোলদার, ৭ নং পেড়িখালী ইউনিয়নে রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুল, ৮ নং ভোজপাতিয়া ইউনিয়নে তরফদার মাহফুজুল হক , ৯ নং মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে তালুকদার ছাবির আহাম্মদ , ১০ নং বাঁশতলী ইউনিয়নে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (ভিপি সোহেল)৷

শনিবার দলের সংসদীয় এবং স্থানীয় সরকার
জনপ্রতিনিধি মনােনয়ন বাের্ডের যৌথসভায় এসব প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং সংসদীয় স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনােনয়ন বাের্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রামপালে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হলেন যারা

themesbazartvsite-01713478536
error: Content is protected !!