নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শোকসভা আয়োজন করা হয় নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। ওই শোকসভায় যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন। সেখানে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন চেলসি ক্লিনটন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, এতে দেখা যায় এক তরুণী চেলসিকে আক্রমণাত্মক কথা বলছেন। তার অভিযোগ, নিউ জিল্যান্ডে ভয়াবহ ওই হামলার পেছনে চেলসির বক্তব্যেরও দায় রয়েছে।

বিল ক্লিনটন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন এখন অন্তঃসত্ত্বা। 

শুক্রবার (১৫ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে অর্ধশত মানুষ হত্যার নিন্দা জানানোর জন্য ওইদিনই শোক সভায় গিয়েছিলেন তিনি।

সিএনএন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে ওই আচরণের ভিডিও দেখে লোকজন ঘটনাটির নিন্দা জানানোর পর ভিডিও পোস্টকারী টুইটার থেকে সরিয়ে নেন।

ভিডিওতে তরুণীর চেলসিকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার মতো মানুষ এবং তোমরা যেসব কথা বিশ্বে ছড়িয়ে দাও তার ফলই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।’

‘আমি তোমাকে জানাতে চাই যে তুমি গভীরভাবে এটা উপলব্ধি কর- তোমরা যেসব কথা বলো তার কারণে ৪৯ জন মানুষ মারা গেছে।’

জবাবে চেলসি ক্লিনটনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি খুব দুঃখিত যে, তুমি এভাবে ভাবছ।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জুমার নামাজের সময় মসজিদে হামলা চালায় মুসলিম বিদ্বেষী অস্ট্রেলিয়ান এক নাগরিক। প্রথমে আল নূর মসজিদে হামলা চালায় সে। পরে পার্শ্ববতী লিনউড মসজিদ হামলা চালায়। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচার করে হামলাকারী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শোকসভায় তোপের মুখে ক্লিনটন কন্যা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শোকসভা আয়োজন করা হয় নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। ওই শোকসভায় যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন। সেখানে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বিস্তারিত

মসজিদে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন মুসল্লি। জুমআর নামাজের জন্য ইমাম জামাল ফাওদা বয়ান শুরু করেছিলেন মাত্র পাঁচ মিনিট আগে। মসজিদে হঠাৎ তিনটি গুলির শব্দ। এরপর সামনে বসে থাকা মুসল্লিরা দ্বিগ্বিদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।

তিনি বিস্মিত হয়ে ভাবছিলেন, হয়তো পাশের কিছু তরুণ খেলাধুলা করছে অথবা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে; যেখান থেকে শব্দ আসছে। শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ও সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচার গল্প জানিয়েছেন দুই ইমাম জামাল ফাওদা এবং ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ।

ওই হামলার পর প্রথমবারের মতো কোনো গণমাধ্যম হিসেবে দেশটির ইংরেজি দৈনিক নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তার কণ্ঠে উঠে এসেছে হামলাকারীর তাণ্ডব ও চোখের সামনে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর চিত্র।

জামাল ফাওদা বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। এবার ঘাতক সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। আলজেরীয় বংশোদ্ভূত এই ইমাম দেখেন এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়তে ছুড়তে আসছে। এমন পরিস্থিতি মসজিদের জানালা ভেঙে লাফিয়ে দৌড় শুরু করেন তিনি।

ফাওদা বলেন, পরে গুলি আরো তীব্র আকার ধারণ করে। আক্রমণকারীর মাথায় হেলমেট, চোখে চশমা ও শরীরে সামরিক বাহিনীর পোশাক। হাতে ছিল আধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুক।

‘তখন মসজিদের ভেতরের লোকজন ভেঙে যাওয়া জানালার দিকে দৌড়াতে থাকেন। অধিকাংশ মানুষ এই জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন। যে কারণে মসজিদের ডান পাশের অল্প কয়েকজন খুন হন। কিন্তু বাম পাশের মুসল্লিরা একজন আরেকজনের ওপর পড়ে যান। এভাবে তারা একটি স্তুপে পরিণত হন। এসময় হামলাকারী পাশে দাঁড়িয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’

ফাওদা বলেন, মানুষকে মারতে বন্দুকধারী ধারাবাহিকভাবে একের পর এক কক্ষে যান। যখনই সে কোনো পাশ থেকে শব্দ পেয়েছে তখন সেই পাশে গিয়ে গুলি করেছে। সে ঠান্ডা মাথায় মানুষকে ঘিরে রেখেছে, বের হওয়ার শব্দ পেলেই সেদিকে ছুটে গিয়ে গুলি করেছে। সে শুধুই গুলি ছুড়েছে, গুলি ছুড়েছে, গুলি ছুড়েছে।

তিনি বলেন, এমনকি ধোঁয়ার জ্বালায় আমরা নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। সর্বত্রই বুলেট উড়ছে। যখন আমরা বেরিয়ে আসলাম, তখন নিশ্চিত ছিলাম না যে সে চলে গেছে কি-না। কারণ সেখানে তখন নীরবতা ছিল। আমরা ধারণা করছিলাম, সে লুকিয়ে আছে, অপেক্ষা করছে…আমরা তাকে দেখতে পাইনি। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।

‘সে ফিরে এল এবং আবার গুলি শুরু করল। যারা লুকিয়েছিল তারা বের হওয়ায় গুলির শিকার হলো। কারণ আমরা জানতাম না সে আবার আসছে। নিহতদের শরীরে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করেছে হত্যাকারী।’

যারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন তাদের অনেকেই পার্ক করে রাখা গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন। অনেকেই লাফিয়ে প্রাচীর পার হয়ে চলে যান। একজন মুসল্লি জরুরি নাম্বার ১১১-এ ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন। হামলাকারী তাকে দেখে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। মসজিদের প্রধান কক্ষে অন্যান্যদের সঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন ফাওদা। এখানেই ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ইমাম বলেন, বন্দুকধারী জানতো না যে নারীরা আলাদা একটি কক্ষে লুকিয়ে আছেন। তারা বেঁচে গেছেন। তবে কয়েকজন নারী পালানোর চেষ্টা করেছেন। বন্দুকধারী দেখে ফেলায় তাদের গুলি করে হত্যা করে। ফাওদা বলেন, ‘এখনো আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে, আমি বেঁচে আছি।’

অবশেষে বন্দুকধারী নিজের গাড়িতে চড়ে শহরের অন্যপ্রান্তের লিনউড মসজিদের দিকে যায়। ওই মসজিদে গিয়ে এই বন্দুকধারী আরো কয়েকজনকে হত্যা করে।

লিনউড মসজিদের ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ। তিনি বলেন, মসজিদে সেই সময় প্রায় ৮০ জন মুসল্লি ছিলেন। ঘাতক বন্দুকধারী মসজিদের বাইরে গুলিবর্ষণ শুরু করে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে। মসজিদের বাইরে দম্পতিকে হত্যা করে সে। গুলিবর্ষণের সময় ইমাম জিরুল্লাহ মসজিদের ভেতরে ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি দেখলাম যে মুসল্লিদের গুলি চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, তখন আমি মুসলিম ভাইদের বললাম, শুয়ে পড়ুন, শুয়ে পড়ুন। কেউ একজন মসজিদের বাইরে আমাদের ভাইদের হত্যা করছে।’

‘কেউই আমার কথা শুনল না। দুর্ভাগ্যবশত হামলাকারী পেছন দিক থেকে এসে জানালা দিয়ে আমাদের এক ভাইয়ের মাথায় গুলি করল। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গুলি চালাতে থাকল। যখন জানালার গ্লাস ভেঙে গেল তখন সবাই শুয়ে পড়ল। সবাই বুঝতে পারল মেঝেতে শুয়ে পড়তে হবে।’

আব্দুল আজিজ নামের এক মুসল্লির সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসেন জিরুল্লাহ। তিনি বাইরে এসে একটি ক্রেডিট কার্ড মেশিন হাতে তুলে নিয়ে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকেন, এদিকে আসো। তখন হামলাকারী তার গাড়ির দিকে দৌড়ে যায়। এ সময় আব্দুল আজিজ তার ক্রেডিট কার্ড মেশিন হামলাকারীর দিকে তাক করে পেছন পেছন দৌড় শুরু করেন।

বন্দুকধারী আবারো গুলি চালাতে শুরু করে। এসময় জিরুল্লাহ মসজিদের প্রধান দরজা বন্ধ করে দিয়ে মসুল্লিদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন। এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি যখন চলছে, তখন মসজিদের ভেতরে আজিজের ১১ ও ৫ বছর বয়সী দুই সন্তান ভয়ে কুঁকড়ে গেছে। আজিজকে লক্ষ্য করে বন্দুকধারী গুলি চালায়; তিনি গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়েন।

পরে বন্দুকধারীর একটি বন্দুক পান আজিজ। হাতে তুলে নিয়ে বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে ট্রিগার চাপেন, কিন্তু বন্দুক ছিল ম্যাগজিন শূন্য। বন্দুকধারী আবারো গাড়ির দিকে ছুটে আসে, দ্বিতীয় বন্দুক হাতে তুলে নেয়। আজিজ বলেন, হামলাকারী গাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমি বন্দুকটি হাতে নিয়ে গাড়ির জানালা লক্ষ্য করে তীর ছুড়ে মারার ন্যায় নিক্ষেপ করি। সেটি গিয়ে বন্দুকধারীর জানালায় আঘাত হানে এবং জানালার গ্লাস ভেঙে যায়।

জানালার গ্লাস ভেঙে যাওয়ায় বন্দুকধারী কিছুটা ভয় পায় এবং গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বন্দুকধারী গালিগালাজ করে। সবাইকে মেরে ফেলবে বলে চিৎকার করে। পরে গাড়ির পেছন পেছন দৌড়াতে থাকেন আজিজ। কিছুদূর যাওয়ার পর আজিজ ফিরে এলেও ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়ায় গাড়ি থেকে বন্দুকধারী ধরে ফেলেন দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।

দুই ইমামের কণ্ঠে মসজিদে হামলার শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা

মসজিদে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন মুসল্লি। জুমআর নামাজের জন্য ইমাম জামাল ফাওদা বয়ান শুরু করেছিলেন মাত্র পাঁচ মিনিট আগে। মসজিদে হঠাৎ তিনটি গুলির শব্দ। এরপর সামনে বসে থাকা মুসল্লিরা বিস্তারিত

সুমন ইসলাম বাবু,লালমনিরহাট:পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ পথে চোরাই মোটরসাইকেল বাংলাদেশে পাচার করার সময়  চোরা কারবারিকে একটি মটর সাইকেল সহ আটক করেছে র‌্যার ১৩ সিপিএসসি, রংপুর ক্যাম্প ।রংপুর র‌্যাব -১৩-র মাহমুদ বশির আহমেদফ্লাইট লেঃসহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এক প্রেসবার্তায় জানান, বাংলাদেশ ভূখন্ডের উত্তর সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানাধীন বুড়িমারী সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন অবৈধ পথে চোরাই মোটরসাইকেল আসছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩,রংপুর চোরাকারবারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই পরিপেক্ষিতে র‌্যাব-১৩, সিপিএসসি, রংপুর ক্যাম্প এর চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৮ জুলাই  সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার বুড়িমারী বাজার এলাকা থেকে চোরাকারবারী দলের সক্রিয় সদস্য  মোঃ রিকাতুল করিম (১৯),পিতা-মোঃ রবিউল ইসলাম , আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন (২৭), পিতা-মৃত আজগার আলী, মোঃ রাকিব ইসলাম (২১), পিতা-মোঃ সায়দার রহমান, মোঃ ফরিদুল ইসলাম (৩১), পিতা-মোঃ কহির উদ্দিন, থানা-পাটগ্রাম ,জেলা- লালমনিরহাটগনদের ’কে গ্রেফতার করে।এসময় তাদের নিকট থেকে একটি টিভিএস এ্যাপাসি ১৫০ সিসি মটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, গ্রেফতারকৃত আসামীগন অবৈধ পথে চোরাই মোটর সাইকেল নিয়ে আসতে সহায়তাকারী হিসেবে লালমনিহাট জেলার মোঃ খাইরুজ্জামান রিপন (১৯), অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কথা স্বীকার করেছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম  থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে মটর সাইকেলসহ ৪ চোরা কারবারিকে গ্রেফতার করেছে রংপুর র‌্যাব ১৩

ধর্ষণ মামলার বিচার তদারকিতে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদারকি/মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বা তার প্রতিনিধি (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার নিচে নয়) এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব বা তার প্রতিনিধি (অতিরিক্ত সচিব পদ-মর্যাদার নিচে নয়)। সেল গঠন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের বেঞ্চে দাখিল করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা আইনে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই সেল গঠনের নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ। ওই রায় অনুযায়ী এই মনিটরিং সেল আইনে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলার বিষয়ে বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তার পাঠানো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অধস্তন আদালত সংক্রান্ত সুপ্রিমকোর্টের কমিটির কাছে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে সুপ্রিমকোর্টের ওই কমিটি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩১ (ক) (৩) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেবে। মূলত গাফিলতি এড়িয়ে ধর্ষণ মামলার বিচারে গতি আনতে এই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এই রায়টিসহ ধর্ষণ মামলার বিচারের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া তিনটি রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং ধর্ষণের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা, সালিস বা মীমাংসা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত বছরের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদেশে সেদিন হাইকোর্ট ধর্ষণের ঘটনায় মধ্যস্থতা, সালিশ বা মীমাংসা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় গত পাঁচ বছরে সারা দেশের থানা, আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কতগুলো মামলা হয়েছে, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি, বিচার শুরুর পর থেকে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একটানা বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আগের নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। চার মাসের মধ্যে এই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সে অনুসারে পুলিশপ্রধান (আইজিপি) ও সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের পক্ষে পাঠানো পৃথক দুটি প্রতিবেদন গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে তুলে ধরে।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ বছরে শুধু সারাদেশের থানাগুলোতে ২৬ হাজার ৬শ ৯৫টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। পুলিশপ্রধানের পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত পুলিশ সদর দপ্তরের স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট শাখা থেকে ধর্ষণ মামলার পরিসংখ্যানটি পাঠানো হয়েছে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ৪৩৩১টি, ২০১৭ সালে ৪৬৮৩টি, ২০১৮ সালে ৪৬৯৫টি, ২০১৯ সালে ৬৭৬৬টি এবং ২০২০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৬২২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি বছরই ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পরিমাণ বেড়েছে।

তবে আদালতগুলোতে কি পরিমাণ ধর্ষণের মামলা হয়েছে সেই তথ্য এখনো হাইকোর্টে পৌঁছায়নি। তবে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো: গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্ষণের মামলা ১৮০ কার্যদিবসে বিরতিহীনভাবে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং করতে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই তথ্য সংবলিত পৃথক দুটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান ও অ্যাডভোকেট শাহিনুজ্জামান শাহিন। পরে আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান জানান, ‘ধর্ষণের মামলার তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন পুলিশের পক্ষ থেকে এসেছে। তবে আদালতগুলোতে কতগুলো ধর্ষণের মামলা হয়েছে সেই তথ্য এখনো আসেনি। আদালত এ কারণে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ মে পরবর্তী তারিখ রেখেছেন।’

গতকাল শুনানিতে আইজিপির প্রতিবেদনের অংশবিশেষ তুলে ধরে আইনজীবী অনীক আর হক আদালতে বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনা প্রতিবছর বাড়ছে। থানায় ৫ বছরে ২৬ হাজার ৬৯৫টি মামলা হয়েছে। তার বাইরে ট্রাইব্যুনালেও মামলা হয়। বাকিদের কাছ থেকে প্রতিবেদন আসেনি। সুপ্রিমকোর্টের প্রতিবেদন তুলে ধরে আইনজীবী অনীক আর হক বলেন, হাইকোর্টের ইতিপূর্বের রায়ের নির্দেশনা অনুসারে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর এই সেল গঠন করা হয়। হাইকোর্টের তিনটি রায় ছিল। এসব রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ আদালতের আদেশের পরই তা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও ব্লাস্টসহ পাঁচটি মানবাধিকার সংগঠনের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৮ দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন হাইকোর্ট। আদালতের ঐ নির্দেশনায় বলা হয়, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন বা এ সংক্রান্ত ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ লিখিতভাবে রেকর্ড করবেন? এ ক্ষেত্রে ওই থানার আওতার মধ্যে ঘটনা সংঘটিত হোক-বা-না-হোক, সেটা মুখ্য নয়? অবিলম্বে এমন একটি সার্ভার তৈরি করতে হবে, যেন এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়? সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনো পুলিশ অফিসার যদি অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব করেন, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সুনির্দিষ্ট বিধান তৈরি করতে হবে?

নির্দেনায় আরও বলা হয়, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নমূলক ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে। একইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএসহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে তা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠাতে হবে। এছাড়া যেকোনো রিপোর্ট সংগ্রহ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার যেকোনো ব্যর্থতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

একই বছরের ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলে জবাবদিহি-সংক্রান্ত আইনের ৩১ক ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তাকে (পুলিশ) এ নির্দেশ দেন আদালত। এ বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয় আদেশে।

সর্বশেষ আইনে নির্ধারিত সময়ে ধর্ষণ মামলার বিচার শেষ না হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে গত বছরের ১৮ জুলাই হাইকোর্ট ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সাত দফা নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে আইনে নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ বিচারের জন্য মামলা হাতে পাওয়ার দিন থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করতে হবে এবং মামলার শুনানি শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা মামলা পরিচালনা করতে মামলায় সাক্ষীর উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে উল্লেখযোগ্য।

রিটকারীর আইনজীবীর ভাষ্য, ধর্ষণের ঘটনায় আইনি বিধিবিধান অনুসরণ ও ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিতে ইতিপূর্বে হাইকোর্ট তিনটি মামলায় রায় দেন। তবে রায়ের নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেখা যায় না। এমন প্রেক্ষাপটে রিটটি করা হয়।

পাঁচ বছরে শুধু থানাতেই ২৬ হাজার ৬৯৫ ধর্ষণ মামলা বিচার তদারকিতে সেল গঠন

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। প্রথম ধাপে রয়েছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ৪ নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ। শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে দোয়া চেয়ে শুরু করেছেন প্রচারনা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে দোয়া ও উঠান বৈঠক করছে তারা ৷ এবার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোটের লড়াইয়ের কথা শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সদস্য ও ৪নং শলবাহান ইউনিয়ন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক আশরাফুল ইসলামের নাম। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যশা চেয়ে ইতিমধ্যে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে বেড়াচ্ছেন। শুনেছেন ভোটারদের চাওয়া পাওয়া ও আশার কথা। তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার,প্রচারণা ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছন। তবে অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রিতায় সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন যুবলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম। জানা যায়, আশরাফুল ইসলাম শালবাহান ইউনিয়নের কাজিগছ গ্রামের মুত তৈয়ব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী৷ বর্তমানে তিনি উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও শালবাহান ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়কের দায়িত্ব ছাড়াও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগ তেঁতুলিয়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি, কাজীগছ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অভয় যুুুব সংঘ নামে একটি সংগঠনের সভাাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কয়েক বছর থেকেই ওই ইউনিয়নের গরীব অসহায় মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। গরীব মানুষের চিকিৎসা,ছেলে মেয়ে বিয়ে,অভাবগ্রস্থ ও শীতার্ত মানুষদের পাশে সবসময় দাঁড়িয়ে এক নজির ঘটনা স্থাপন করেছেন। তিনি মহামারী করোনা ভাইরাসের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গরীব অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি নিজের কাধে ত্রাণ তুলে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌছিয়ে দিয়ে এক মানবিক পরিচয় বহন করে এমন কি কোন মানুষের বিপদের কথা শোনা মাত্রই তিনি রাত-দিন কিংবা ঝড়-বৃষ্টির রাতে কিংবা সকলে ছুটে যান এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, সুখ দুঃখে সাথী হয়ে দাড়ান৷ তিনি তার ইউনিয়নে কোন মানুষ অসুস্থ হলে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা তার একমাত্র প্রাইভেট কারটি রোগীদের হাসপাতালে পৌছানোর কাজে ব্যবহার করতে দেখে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শালবাহান ইউনিয়নের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা চেয়ে হাফ ডর্জনের বেশী প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে বাকি সব প্রার্থীদের চেয়ে আলোচনায় ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে আশরাফুল ইসলামের নাম৷ বর্তমানে যিনি চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আসন্ন শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ জয়ী করতে হলে বা নৌকা মার্কার বিজয়ী৷ করতে হলে আশরাফুল ইসলামের মতো সৎ যোগ্য প্রার্থী প্রয়োজন বলে মনে করছেন ইউনিয়ন আ’লীগের প্রবীনও নবীন নেতাসহ সকল নেতাকর্মীরা৷ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একনিষ্ট কর্মী হিসাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করার জন্য এলাকাবাসি তাকে চেয়ারম্যন হিসাবে দেখতে চায়। এবং দীর্ঘ দিন যাবৎ তিনি জনসাধারনের পাশে থেকে জনগনের সেবা করাতে জনগন তাকেই নৌকা মার্কায় চেয়ারম্যন হিসাবে আগামী দিনগুলোতে সেবা করার সুযোগ চায় আশরাফুল এমনটাই জানান স্থানীয়রা। তিনি বিগত ১ দশক ধরে নিজ অর্থ ব্যায় করে জনগনের চিকিৎসা সেবা, অসহায় পিতা মাতার মেয়ে পাত্রস্থ করার কাজে অর্থিক সহযোগীতা প্রদান করে আসছেন তিনি। ন্যয় সঙ্গত কার্যকলাপে রাতদিন সব সময় অসহায়দের পাশে থেকে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। উঠান বৈঠকেও শতশত আবাল বৃদ্ধ বনিতার ঢল নামে বৈঠকে। শালবাহান ইউনিয়নের জনসাধারণ বিভিন্ন সময় উঠান বৈঠক করে মানুষদের অন্যায়ের প্রতিবাদী মানুষ আশরাফুলকে নৌকা প্রতিক দিয়ে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করে ইউনিয়ন বাসির উন্নয়ন ও অসহায় মানুষদের সেবা করার জন্য আওয়ামীলীগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ও প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ইউনিয়ন বাসি। এবিষয়ে ৪নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রত্যাশী ও যুবলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম জানান, ছোট থেকে শালবাহান ইউনিয়নের ধূলোবালিতে বড় হয়েছি। আমি আমার ইউনিয়নের মানুষের কষ্ট বুঝি। আমি তাদের বিপদে আপদে ছুটে গিয়ে দেখেছি তারা কত কষ্ট করে জীবন যাপন করছল। তারা সরকারী সহযোগিতা তেমন পায় না। আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো এটা নিজেও কোনদিন ভাবিনি আমার ইউনিয়নের মানুষের দাবী আমি যেন চেয়ারম্যান পদে ভোট করি। তাদের পাশে দাঁড়াই, তাই আমি জনগনের সেবার জন্য তাদের স্বপ্ন পূরণে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী। দেশরত্ন শেখ হাসিনা যদি আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার সুযোগ দেয় তাহলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো ইনশাআল্লাহ।

তেঁতুলিয়ায় আসন্ন শালবাহান ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক চায় আশরাফুল

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।খুলনার ডুমুরিয়ায়  মৎস্য অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এর আয়োজনে কমিউনিটি
বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিশারিজ এন্ড অ্যাকুয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ প্রজেক্টের আওতায় মঙ্গলবার সকাল ১০টা সময় ডুমুরিয়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে করোনা ভাইরাস ও আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী পরিবারের নারী সদস্যদের ১ম ব্যাচে ১ দিনের পুষ্টি, খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণের কো-অরডিনেট করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: আবুবকর সিদ্দিক। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ও ডা: শামীমা সুলতানা, মেডিকেল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ডুমুরিয়া। প্রশিক্ষণে এফএও টিম সদস্য ড. মো আবুল হাসনাত, জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী, ড. ওয়াজিয়া খাতুন, পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, শাফিয়া বেগম সাকী, প্রজেক্ট এসিসট্যান্ট, মাসুদ আহমেদ, কমিউনিটি এক্সপার্ট, ড. রফিকুল ইসলাম খান, ফিল্ড কো-অরডিনেটর উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা মূল্যের পুষ্ট সামগ্রী (বিস্কিট, পেঁপে বীজ, খেঁজুর, বাদাম, মসুর ডাল, সরিষা তেল, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়ারা) ও নগদ ১০০০ টাকা প্রদান করা হয়। ২-৪,৭-৮ ফেব্রুয়ারি ৫ ব্যাচে ডুমুরিয়া উপজেলার ১০০ জন নারী সদস্য এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।

ডুমুরিয়ায় মৎস্যজীবী পরিবারের নারী সদস্যদের পুষ্টি, খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।

মোঃ ফরহাদ রহমান খোকন দিনাজপুর \ “টেকসই উন্নয়ন-সমৃদ্ধ দেশ” এই
প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মুজিবর্ষে ৪র্থ জাতীয়
নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২১ উদ্যাপন উপলক্ষে খাদ্যে’র নিরাপদতা শীর্ষক আলোচনা সভা
অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২ ফেব্রæয়ারি মঙ্গলবার দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন
কক্ষে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২১ উদ্ধসঢ়;যপন উপলক্ষে খাদ্যের নিরাপদতা শীর্ষক আলোচনা
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম। অতিরিক্ত জেলা
প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আশ্রাফুজ্জামান, জেলা প্রাণি
সম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আশিকা আকবর তৃষা,
সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, ফ্রিল্যান্সার এসোসিয়েশনের নেতা মুকিত
হায়দার শিপন, ছাত্রনেতা মোঃ আহসানুজ্জামান চঞ্চল, ইউএসডিও’র সিনিয়র কো-
অর্ডিনেটর মোঃ আমিনুল ইসলাম, জেলা বেকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক
মোঃ শামীম শেখ প্রমুখ। উক্ত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের বিভিন্ন
পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এতে অংশ নেন।

দিনাজপুরে ৪র্থ জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস

মোঃ আল আমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দৈনিক আমাদের বাংলা পত্রিকার  ৪ বছর পূর্তি ও ৫ম বর্ষে পদার্পণ উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার রাতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আখাউড়া উপজেলা শাখার অস্থায়ী অফিসে আলোচনা সভা ও কেক  কাটার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

আমাদের বাংলা পত্রিকার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে আখাউড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও  আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবির এর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন দৈনিক আমাদের বাংলা পত্রিকার পত্রিকার আখাউড়া প্রতিনিধি ও আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো.জুয়েল মিয়া,সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান আবির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন,দপ্তর সম্পাদক জুনায়েদ হোসেন পলক, প্রচার সম্পাদক অমিত  হাসান অপুসহ আরো অনেকে।
এসময় বক্তারা দৈনিক আমাদের বাংলা পত্রিকাটির সফলতা কামনা করেন।

আখাউড়ায় জাতীয় দৈনিক আমাদের বাংলা পত্রিকার পঞ্চম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা।

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সেতুতে না উঠে নৌপথে যেতে হলে, নৌকাতেই চড়তে হবে।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটার প্রশংসা তো দিতেই পারল না, উল্টো বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিল, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে, কেউ উঠবেন না। তাহলে নদীটা পার হবে কিসে মাননীয় স্পিকার?’

হাস্যরস করে তিনি বলেন, ‘উপায় নেই, নৌকাতেই চড়তে হবে। আমাদের নৌকা অনেক বড়। সবাইকে নেব। কিন্তু বেছে নেব। কেউ যেন নৌকা ফুটো করতে না পারে।’

১২ কার্যদিবসের এই অধিবেশন আজ শেষ হয়েছে। শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়।

উপায় নেই, নৌকাতেই চড়তে হবে: খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনা

মোঃ তাজুল ইসলাম: দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বিভিন্ন মাদ্রাসার নিয়োগ বানিজ্য চলে আসছে, এর ধারাবাহিকতায় ০২ ফেব্রæয়ারী মঙ্গলবার নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে তৃতীয় তলার হলরুমে নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে আসে নীলফামারী সদর টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু ও মাদ্রাসা সুপার ময়নুল ইসলাম। এই খবর জানা জানি হলে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারা পরীক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলামের দ্বারস্ত হন ও স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের প্রশ্নের মুখে পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ না দিয়ে তরিঘরি করে অফিস বন্ধ করে সরকারি কলেজে কাজ আছে বলে সরে পড়েন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম, এর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পরীক্ষার সকল আয়োজন ছেড়ে একটি দালাল চক্রের সহায়তায় দ্রæত পালিয়ে যান মাদ্রাসার সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু ও মাদ্রাসা সুপার ময়নুল ইসলাম। পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে না পারা মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ ময়নুল ইসলাম, আকবর আলী নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর। নিয়োগ পরীক্ষা অংশ গ্রহন করতে না পারা আকবর আলী বলেন, মাদ্রাসা সুপার ও সভাপতি ৬ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে হাফিজুল ইসলামকে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দেবার প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করে ফলেছে, আমাদেরকে জানতে না দিয়ে অতি গোপনে দালাল চক্রেরের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে লোক দেখানো নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগের বৈধতা দেবার চেষ্টা করছে। অথচ আমরা ৩০ থেকে ৩৫ জনের মত বেকার যুবক নিরাপত্তা কর্মী পদে আবেদন করি। মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি পদে নিয়োগ পাইয়ে দেবার জন্য ৬ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহন করেছে নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু ও মাদ্রাসার সুপার ময়নুল ইসলাম। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম মুঠো ফোনে বলেন, আসলে আমি একজন সদস্য পরীক্ষা কমিটির, পরীক্ষা বন্ধের মালিক মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু। নিয়োগ পরীক্ষা দিতে না পারা পরীক্ষার্থীরা আরো বলেন, একটি দালাল চক্র এ ভাবে গোপনে নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। এতে চাকুরী থেকে বঞ্চিত হয় আমাদের মত হাজারো বেকার যুবক, এর আগেও এই শিক্ষা অফিসের ভিতর গত ৩ মাসে ৫০টি নিয়োগ বানিজ্য হয়েছে বিভিন্ন পদে। এ বিষয়ে নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ময়নুল ইসলাম ও সভাপতি হাবিবুর ইসলাম সেবু কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা শুরুর সময় বিকাল ৩টা থাকলেও ৪টা ৩০মিনিটে পরীক্ষার সকল আয়োজন সম্পন্ন করে জেলা শিক্ষা অফিস।

নীলফামারীতে গোপনে মাদ্রাসার দুইটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে গিয়ে মাদ্রাসা সভাপতি ও সুপারের পলায়ন বিপাকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

মসজিদে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন মুসল্লি। জুমআর নামাজের জন্য ইমাম জামাল ফাওদা বয়ান শুরু করেছিলেন মাত্র পাঁচ মিনিট আগে। মসজিদে হঠাৎ তিনটি গুলির শব্দ। এরপর সামনে বসে থাকা মুসল্লিরা দ্বিগ্বিদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।

তিনি বিস্মিত হয়ে ভাবছিলেন, হয়তো পাশের কিছু তরুণ খেলাধুলা করছে অথবা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে; যেখান থেকে শব্দ আসছে। শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ও সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচার গল্প জানিয়েছেন দুই ইমাম জামাল ফাওদা এবং ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ।

ওই হামলার পর প্রথমবারের মতো কোনো গণমাধ্যম হিসেবে দেশটির ইংরেজি দৈনিক নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তার কণ্ঠে উঠে এসেছে হামলাকারীর তাণ্ডব ও চোখের সামনে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর চিত্র।

জামাল ফাওদা বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। এবার ঘাতক সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। আলজেরীয় বংশোদ্ভূত এই ইমাম দেখেন এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়তে ছুড়তে আসছে। এমন পরিস্থিতি মসজিদের জানালা ভেঙে লাফিয়ে দৌড় শুরু করেন তিনি।

ফাওদা বলেন, পরে গুলি আরো তীব্র আকার ধারণ করে। আক্রমণকারীর মাথায় হেলমেট, চোখে চশমা ও শরীরে সামরিক বাহিনীর পোশাক। হাতে ছিল আধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুক।

‘তখন মসজিদের ভেতরের লোকজন ভেঙে যাওয়া জানালার দিকে দৌড়াতে থাকেন। অধিকাংশ মানুষ এই জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন। যে কারণে মসজিদের ডান পাশের অল্প কয়েকজন খুন হন। কিন্তু বাম পাশের মুসল্লিরা একজন আরেকজনের ওপর পড়ে যান। এভাবে তারা একটি স্তুপে পরিণত হন। এসময় হামলাকারী পাশে দাঁড়িয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’

ফাওদা বলেন, মানুষকে মারতে বন্দুকধারী ধারাবাহিকভাবে একের পর এক কক্ষে যান। যখনই সে কোনো পাশ থেকে শব্দ পেয়েছে তখন সেই পাশে গিয়ে গুলি করেছে। সে ঠান্ডা মাথায় মানুষকে ঘিরে রেখেছে, বের হওয়ার শব্দ পেলেই সেদিকে ছুটে গিয়ে গুলি করেছে। সে শুধুই গুলি ছুড়েছে, গুলি ছুড়েছে, গুলি ছুড়েছে।

তিনি বলেন, এমনকি ধোঁয়ার জ্বালায় আমরা নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। সর্বত্রই বুলেট উড়ছে। যখন আমরা বেরিয়ে আসলাম, তখন নিশ্চিত ছিলাম না যে সে চলে গেছে কি-না। কারণ সেখানে তখন নীরবতা ছিল। আমরা ধারণা করছিলাম, সে লুকিয়ে আছে, অপেক্ষা করছে…আমরা তাকে দেখতে পাইনি। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।

‘সে ফিরে এল এবং আবার গুলি শুরু করল। যারা লুকিয়েছিল তারা বের হওয়ায় গুলির শিকার হলো। কারণ আমরা জানতাম না সে আবার আসছে। নিহতদের শরীরে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করেছে হত্যাকারী।’

যারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন তাদের অনেকেই পার্ক করে রাখা গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন। অনেকেই লাফিয়ে প্রাচীর পার হয়ে চলে যান। একজন মুসল্লি জরুরি নাম্বার ১১১-এ ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন। হামলাকারী তাকে দেখে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। মসজিদের প্রধান কক্ষে অন্যান্যদের সঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন ফাওদা। এখানেই ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ইমাম বলেন, বন্দুকধারী জানতো না যে নারীরা আলাদা একটি কক্ষে লুকিয়ে আছেন। তারা বেঁচে গেছেন। তবে কয়েকজন নারী পালানোর চেষ্টা করেছেন। বন্দুকধারী দেখে ফেলায় তাদের গুলি করে হত্যা করে। ফাওদা বলেন, ‘এখনো আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে, আমি বেঁচে আছি।’

অবশেষে বন্দুকধারী নিজের গাড়িতে চড়ে শহরের অন্যপ্রান্তের লিনউড মসজিদের দিকে যায়। ওই মসজিদে গিয়ে এই বন্দুকধারী আরো কয়েকজনকে হত্যা করে।

লিনউড মসজিদের ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ। তিনি বলেন, মসজিদে সেই সময় প্রায় ৮০ জন মুসল্লি ছিলেন। ঘাতক বন্দুকধারী মসজিদের বাইরে গুলিবর্ষণ শুরু করে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে। মসজিদের বাইরে দম্পতিকে হত্যা করে সে। গুলিবর্ষণের সময় ইমাম জিরুল্লাহ মসজিদের ভেতরে ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি দেখলাম যে মুসল্লিদের গুলি চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, তখন আমি মুসলিম ভাইদের বললাম, শুয়ে পড়ুন, শুয়ে পড়ুন। কেউ একজন মসজিদের বাইরে আমাদের ভাইদের হত্যা করছে।’

‘কেউই আমার কথা শুনল না। দুর্ভাগ্যবশত হামলাকারী পেছন দিক থেকে এসে জানালা দিয়ে আমাদের এক ভাইয়ের মাথায় গুলি করল। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গুলি চালাতে থাকল। যখন জানালার গ্লাস ভেঙে গেল তখন সবাই শুয়ে পড়ল। সবাই বুঝতে পারল মেঝেতে শুয়ে পড়তে হবে।’

আব্দুল আজিজ নামের এক মুসল্লির সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসেন জিরুল্লাহ। তিনি বাইরে এসে একটি ক্রেডিট কার্ড মেশিন হাতে তুলে নিয়ে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকেন, এদিকে আসো। তখন হামলাকারী তার গাড়ির দিকে দৌড়ে যায়। এ সময় আব্দুল আজিজ তার ক্রেডিট কার্ড মেশিন হামলাকারীর দিকে তাক করে পেছন পেছন দৌড় শুরু করেন।

বন্দুকধারী আবারো গুলি চালাতে শুরু করে। এসময় জিরুল্লাহ মসজিদের প্রধান দরজা বন্ধ করে দিয়ে মসুল্লিদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন। এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি যখন চলছে, তখন মসজিদের ভেতরে আজিজের ১১ ও ৫ বছর বয়সী দুই সন্তান ভয়ে কুঁকড়ে গেছে। আজিজকে লক্ষ্য করে বন্দুকধারী গুলি চালায়; তিনি গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়েন।

পরে বন্দুকধারীর একটি বন্দুক পান আজিজ। হাতে তুলে নিয়ে বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে ট্রিগার চাপেন, কিন্তু বন্দুক ছিল ম্যাগজিন শূন্য। বন্দুকধারী আবারো গাড়ির দিকে ছুটে আসে, দ্বিতীয় বন্দুক হাতে তুলে নেয়। আজিজ বলেন, হামলাকারী গাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমি বন্দুকটি হাতে নিয়ে গাড়ির জানালা লক্ষ্য করে তীর ছুড়ে মারার ন্যায় নিক্ষেপ করি। সেটি গিয়ে বন্দুকধারীর জানালায় আঘাত হানে এবং জানালার গ্লাস ভেঙে যায়।

জানালার গ্লাস ভেঙে যাওয়ায় বন্দুকধারী কিছুটা ভয় পায় এবং গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বন্দুকধারী গালিগালাজ করে। সবাইকে মেরে ফেলবে বলে চিৎকার করে। পরে গাড়ির পেছন পেছন দৌড়াতে থাকেন আজিজ। কিছুদূর যাওয়ার পর আজিজ ফিরে এলেও ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়ায় গাড়ি থেকে বন্দুকধারী ধরে ফেলেন দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।

দুই ইমামের কণ্ঠে মসজিদে হামলার শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শোকসভা আয়োজন করা হয় নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। ওই শোকসভায় যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন। সেখানে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন চেলসি ক্লিনটন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, এতে দেখা যায় এক তরুণী চেলসিকে আক্রমণাত্মক কথা বলছেন। তার অভিযোগ, নিউ জিল্যান্ডে ভয়াবহ ওই হামলার পেছনে চেলসির বক্তব্যেরও দায় রয়েছে।

বিল ক্লিনটন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন এখন অন্তঃসত্ত্বা। 

শুক্রবার (১৫ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে অর্ধশত মানুষ হত্যার নিন্দা জানানোর জন্য ওইদিনই শোক সভায় গিয়েছিলেন তিনি।

সিএনএন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে ওই আচরণের ভিডিও দেখে লোকজন ঘটনাটির নিন্দা জানানোর পর ভিডিও পোস্টকারী টুইটার থেকে সরিয়ে নেন।

ভিডিওতে তরুণীর চেলসিকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার মতো মানুষ এবং তোমরা যেসব কথা বিশ্বে ছড়িয়ে দাও তার ফলই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।’

‘আমি তোমাকে জানাতে চাই যে তুমি গভীরভাবে এটা উপলব্ধি কর- তোমরা যেসব কথা বলো তার কারণে ৪৯ জন মানুষ মারা গেছে।’

জবাবে চেলসি ক্লিনটনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি খুব দুঃখিত যে, তুমি এভাবে ভাবছ।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জুমার নামাজের সময় মসজিদে হামলা চালায় মুসলিম বিদ্বেষী অস্ট্রেলিয়ান এক নাগরিক। প্রথমে আল নূর মসজিদে হামলা চালায় সে। পরে পার্শ্ববতী লিনউড মসজিদ হামলা চালায়। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচার করে হামলাকারী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শোকসভায় তোপের মুখে ক্লিনটন কন্যা

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ-আসন্ন ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব মোঃ সখিমুদ্দিন প্রামানিককে প্রার্থী হিসেবে পেতে চায় ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়নের সর্ব স্তরের জনগন। বিশ্ব ব্যাপী

মহামারীর শেষ কবে? পৃথিবী জুড়ে এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা হলেও এরই মধ্যেই দেশে ঘনিয়ে আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের।আইন অনুযায়ী আগামী বছরের মার্চে ইউপি নির্বাচন শুরু। আর এ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মাঝে চলছে জল্পনা আর কল্পনা। তারই ধারাবাহিকতায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রাথী হওয়ার ঘোষনা দেন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রেী শেখ হাসিনা ও আত্রাই- রানীনগর এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলাল
আস্থা ,আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ,ন্যায় পরায়ন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারী উন্নয়নের রুপকার ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সখিমুদ্দিন প্রামানিক।সখিমুদ্দিন ছাত্র জীবণ থেকেই আওয়ামী লীগের আদর্শ লালন করেন।তিনি বাল্যকালে অনেকদিন যাবৎআত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূন্য রাজনীতির সাথে একই ক্যাটাগরী
রাজনৈতিকের আর্দশ্য বুকে ধারণ করেন। সখিমুদ্দীন ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।এ বিষয়ে বিস্তারিতআত্রাই উপজেলার কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রি মিডিয়ার প্রতিনিধিগনকে তিনি বলেন ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়ন বাসীর দোয়া ও আর্শীবাদ নিয়ে আসন œইউপি নির্বাচনের প্রচরনা শুরু করবো ইনশাল্লাহ। এলাকাবাসী জানান, সখিমুদ্দিন প্রামানিক ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ।সখিমুদ্দিন প্রতিনিয়ত উপজেলার ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়নেরবিভিন্নহাট বাজার,গ্রাম-পাড়া মহল্লায় সহ বিভিন্ন স্থানে গণ সংযোগ করছেন এবং নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশলও শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।এলাকাবাসী জানান—সখিমুদ্দিনপ্রামানিককে দলীয় সমর্থন দেয়া হলে নেতাকমীদের পাশাপাশি বিভিন্ন-শ্রেণীর লোকজন সমর্থন করবেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সখিমুদ্দিন প্রামানিক সব সময় গরীব দুঃখী খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকেন এবং সরকারের উন্নয়ন মূলক কাজগুলো করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। সখিমুদ্দিন প্রামানিক উপজেলা সাহেব গঞ্জ গ্রামের আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা মরহুম আলম প্রামানিক সুযোগ্য সন্তান।তিনি বলেন—এদেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে আমার বাপ দাদাদের ভ’মিকা ছিল প্রসংসনীয়। বাল্যকাল থেকেই আমরা আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত।আমাকে আমার দল তথা
আত্রাই-রাণীনগর অবিভাবক জনাব আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলাল এমপি যোগ্য মনে করলে এবং এলাকাবাসী সহযোগীতা করলে আগামী ইউপি নির্বাচনে নুহ নবীর কিস্তী সেই নৌকা মার্কার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে ইনশাল্লাহ।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সখিমুদ্দিন প্রামানিক সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী

themesbazartvsite-01713478536
error: Content is protected !!